যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়ার কাজে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন আগামী রবিবার (১৪ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এ ঘোষণা দেন তারা।
শ্রমিক সংগঠনের দাবি
দুটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন।
আবেদনপত্রে শ্রমিকনেতারা বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনও ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি।
কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, ইতিপূর্বে কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আগামী রবিবার থেকে বন্দরে শ্রমিক দিয়ে পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। পাশাপাশি আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থান
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘বন্দরের চেয়ারম্যানের কাছে দুটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি আবেদন আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



