ফুটবলকে 'দ্য বিউটিফুল গেম' বলা হলেও, ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ সৌন্দর্যের চেয়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও রেকর্ডসংখ্যক কার্ডের জন্য বেশি স্মরণীয়। জার্মানির ন্যুরেমবার্গে অনুষ্ঠিত পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের রাউন্ড অব ১৬-এর এই ম্যাচটি ইতিহাসে 'ব্যাটল অফ ন্যুরেমবার্গ' নামে পরিচিত।
রেকর্ডসংখ্যক কার্ড
২০০৬ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে রাশিয়ান রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ মোট ১৬টি হলুদ কার্ড এবং ৪টি লাল কার্ড দেখান। এটি এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ডের রেকর্ড। পুরো ম্যাচে মোট ২০ বার কার্ড দেখানো হয়, যা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা।
ম্যাচের উত্তেজনা
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। কঠোর ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি এবং বারবার ফাউলের কারণে রেফারিকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বারবার কার্ড বের করতে হয়। পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্ট লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ম্যাচের শেষভাগে উভয় দলই ৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলে।
গোল ও ফলাফল
এত উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে পর্তুগালের মানিশের পা থেকে। তার করা গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
বিতর্ক ও বিশ্লেষণ
ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারও রেফারিং নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক আচরণই ম্যাচটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
রেকর্ড আজও অটুট
যদিও ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে হলুদ কার্ডের সংখ্যা ১৮-এ পৌঁছায়, তবুও এক ম্যাচে ৪টি লাল কার্ডের রেকর্ড এখনো 'ব্যাটল অফ ন্যুরেমবার্গ'-এর দখলেই রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচ আজও একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়, যেখানে গোলের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে রেফারির পকেট থেকে বের হওয়া হলুদ ও লাল কার্ড।



