ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: গ্রুপ জি প্রিভিউ ও চার দলের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: গ্রুপ জি প্রিভিউ ও চার দলের বিশ্লেষণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ জি-তে লড়াই করবে বেলজিয়াম, মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। এই চার দলের মধ্যে তিনটি দল ইতিহাসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রুপটির সব দলের সূচি, শক্তিসামর্থ্য, দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

গ্রুপ জি ফিক্সচার

  • ১৫ জুন: ইরান-নিউজিল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস
  • ১৫ জুন: বেলজিয়াম-মিশর, সিয়াটল
  • ২১ জুন: বেলজিয়াম-ইরান, লস অ্যাঞ্জেলেস
  • ২১ জুন: নিউজিল্যান্ড-মিশর, ভ্যাংকুভার
  • ২৬ জুন: মিশর-ইরান, সিয়াটল
  • ২৬ জুন: নিউজিল্যান্ড-বেলজিয়াম, ভ্যাংকুভার

দল প্রিভিউ— বেলজিয়াম

বেলজিয়াম ২০১৮ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ছিল, কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই তকমা এখন আর নেই। দলটির সোনালি প্রজন্মের সিংহভাগ বিদায় নিয়েছেন খালি হাতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়াম এসেছে নতুন রূপে— পুরোনো তারকাদের সাথে তরুণ খেলোয়াড়দের মিশেলে রোমাঞ্চকর এক দল তৈরি হয়েছে। কোচ রুডি গার্সিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে দলে নতুন প্রাণ ও কৌশলগত বৈচিত্র্য এনেছেন। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বরাবরই ওপরের দিকে থাকা বেলজিয়াম গ্রুপ জি-তে সবচেয়ে বড় ফেভারিট। ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৫-২ গোলের জয় ও সর্বশেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া তাদের শক্তির প্রমাণ।

আক্রমণ

বেলজিয়ামের আক্রমণ ভয়ঙ্কর। জেরেমি ডকু বাম দিক থেকে আক্রমণে প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন। তার গতি ও ওয়ান অন ওয়ান দক্ষতা বিশ্বমানের। বাছাইপর্বে তিনি পাঁচটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনা এখনও দলের প্রধান সৃষ্টিশীল শক্তি। তিনি এমন পাস বের করতে পারেন যা অন্য কেউ কল্পনাও করতে পারে না। সেট পিস থেকেও তিনি গোলের বড় উৎস। রমেলু লুকাকু বেলজিয়ামের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। প্রতিপক্ষ ভেদে তিনি বা চার্লস ডি কেতেলার মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন। লোইস ওপেন্ডার হাইপ্রেসিংয়ে দারুণ কার্যকর। পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়াম সবচেয়ে বিপজ্জনক— ডকু দলের আক্রমণকে বিস্তৃতি দেন, আর ডি ব্রুইনার পাসিং রেঞ্জ যে কোনো রক্ষণকে বিপর্যস্ত করতে পারে। দলের আক্রমণ এতটাই গভীর যে কয়েকজন খেলোয়াড় ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোলদাতার দৌড়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিডফিল্ড

বেলজিয়ামের মিডফিল্ড অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়। আমাদৌ ওনানা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে পুরো দলকে রক্ষণে সহায়তা করেন। ইউরি তিয়েলেমান্স ওনানার পাশে খেলেন এবং আক্রমণ-রক্ষণে ভারসাম্য রাখেন। লেয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড মিডফিল্ড বা উইং থেকে খেলেন এবং গোলে সরাসরি অবদান রাখতে পারেন। ডি ব্রুইনা সামান্য এগিয়ে থেকে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। কোচ গার্সিয়া প্রতিপক্ষ অনুযায়ী ৪-৩-৩ ও ৪-২-৩-১ ছকের মধ্যে সহজে সুইচ করতে পারেন, যা বেলজিয়ামের বড় শক্তি।

রক্ষণ

বেলজিয়ামের রক্ষণ দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। আর্তুর তিয়াত, ক্যোন দেবাস্ত ও কনি ডি উইন্টার— এই নতুন রক্ষণলাইন এখনও অনভিজ্ঞ। তাদের ওপর টুর্নামেন্টের চাপে নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। থিবো কোর্তোয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার, যিনি রক্ষণের অনেক ভুল ঢেকে দিতে পারেন। তবে ফুলব্যাকরা ওপরে উঠলে পিছনে জায়গা তৈরি হয়, যা প্রতিপক্ষের দ্রুত ফরোয়ার্ডরা কাজে লাগাতে পারে। বাছাইপর্বে এগিয়ে থাকার পর লিড ধরে রাখতে না পারার প্রবণতা ছিল, যা টুর্নামেন্টে ঠিক না করলে বিপদ হতে পারে। ওনানা রক্ষণকে সামলান, কিন্তু সংগঠিত আক্রমণের বিরুদ্ধে সেন্টারব্যাকদের আরও নির্ভরযোগ্য হতে হবে।

সম্ভাব্য একাদশ

কোর্তোয়া; মিউনিয়ের, ডি উইন্টার, তিয়াত ও ডি কুইপার; ওনানা, তিয়েলেমান্স, ত্রোসার্ড, ডি ব্রুইনা ও ডকু; ডি কেতেলারে।

সেট পিস

কর্নার: ডি ব্রুইনা, তিয়েলেমান্স ও ত্রোসার্ড। ডিরেক্ট ফ্রি কিক: ডি ব্রুইনা ও ডকু। পেনাল্টি: ডি ব্রুইনা, তিয়েলেমান্স ও লুকাকু।

চ্যালেঞ্জ

লুকাকু ও ডি ব্রুইনার ফিটনেস তিনটি ম্যাচ জুড়ে ঠিক রাখা জরুরি। ফুলব্যাক ওপরে উঠলে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা মিডফিল্ডকে সামলাতে হবে। বাছাইপর্বে লিড হারানোর প্রবণতা বিশ্বকাপে চলবে না। তরুণ রক্ষকদের মানসিক দৃঢ়তা পরীক্ষা হবে বড় মঞ্চে। আক্রমণে মূল তারকারা না থাকলেও দলকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

দল প্রিভিউ– মিশর

মিশর ২০১৮ সালের পর চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। কোচ হোসাম হাসান মিশরের সর্বকালের সেরা গোলদাতা (৬৯ গোল)। তিনি ১৯৯০ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং এবার কোচ হিসেবে মিশরকে বিশ্বকাপে নিয়ে গেছেন। বাছাইপর্বে মিশর ১০ ম্যাচে অপরাজিত ছিল, মাত্র দুটি গোল খেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলের ভিত্তি শক্ত রক্ষণ ও মোহামেদ সালাহ-ওমর মারমুশের মতো বিপজ্জনক অ্যাটাকার। ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশরের জন্য ইতিহাস বদলানোর সুযোগ, কারণ তারা এখনও কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ জেতেনি।

আক্রমণ

মোহামেদ সালাহ দলের সবকিছুর কেন্দ্রে। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বাছাইপর্বে ৯টি গোল করেছেন এবং মোট ৬৭টি আন্তর্জাতিক গোলের মালিক। ওমর মারমুশ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেন এবং সালাহর পাশে দুর্দান্ত জুটি গড়েছেন। তার সৃষ্টিশীলতা, প্রেসের তীব্রতা ও ন্যারো স্পেসে গোল করার ক্ষমতা অসাধারণ। ত্রেজেগে অতিরিক্ত অ্যাটাকার অপশন। রক্ষণকে টেনে-প্রশস্ত করতে সরাসরি উইং দৌড় ব্যবহার করা হয়, তারপর সালাহ ও মারমুশকে সেরা পজিশনে বল দেওয়া হয়। সালাহ ও মারমুশ একসাথে ফর্মে থাকলে মিশর যে কোনো দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। কোচ হাসানের কাছে বেঞ্চ থেকেও ভালো অপশন আছে।

মিডফিল্ড

মিশরের মিডফিল্ড কঠোর পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা রক্ষণাত্মক কাজে মনোযোগ দেন এবং সালাহ-মারমুশকে বল সরবরাহ করেন। মিডফিল্ডাররা ন্যারো স্পেসে থেকে সেন্ট্রাল জায়গা ডিফেন্ড করেন, ফলে প্রতিপক্ষ ওয়াইড এরিয়া থেকে আক্রমণে উঠতে বাধ্য হয়। বাছাইপর্বে সাতটি ক্লিনশিট তাদের মাঝমাঠের কার্যকারিতার প্রমাণ। সুযোগ দেখলেই মিডফিল্ড থেকে দ্রুত থ্রু পাস আসে সালাহর কাছে। ফাতহি ও আশুর মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রক্ষণ

মিশরের রক্ষণ বাছাইপর্বে অসাধারণ ছিল: ১০ ম্যাচে মাত্র দুটি গোল খেয়েছে এবং সাতটি ক্লিনশিট করেছে। ইয়াসের আহমেদ ইব্রাহিম এল হানাফি ও মোহামেদ আবদেলমোনেম সেন্টারব্যাকে অভিজ্ঞ। ফুলব্যাকরা সুচিন্তিতভাবে ওপরে ওঠেন, যা রক্ষণকে টেকসই করে। দল দীর্ঘসময় রক্ষণে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

সম্ভাব্য একাদশ

শোবেইর; হানি, এল হানাফি, আবদেলমোনেম ও এল ফেতুহ; আত্তিয়া ও ফাতহি; সালাহ, আশুর ও ত্রেজেগে; মারমুশ।

সেট পিস

কর্নার: সালাহ, মারমুশ ও জিজো। ফ্রি কিক: মোহামেদ সালাহ। পেনাল্টি: সালাহ।

চ্যালেঞ্জ

সালাহ ও মারমুশ ছাড়া আক্রমণ নির্ভরযোগ্য নয়। ক্যাফ বাছাইপর্বের রক্ষণ ইউরোপীয় বা দক্ষিণ আমেরিকান দলের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে তা অনিশ্চিত। মিশর এখনও বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জেতেনি, তাই সুযোগ কাজে লাগানো বড় সমস্যা। ইউরোপীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান দলের টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের মুখোমুখি হওয়া বড় পরীক্ষা। সালাহ ৩৪ বছর বয়সী— সম্ভবত এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ, তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করে।

দল প্রিভিউ– ইরান

ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। এশিয়ার অন্যতম অভিজ্ঞ দল হিসেবে তারা পরিচিত। কোচ আমির ঘালেনোই একজন বাস্তববাদী ট্যাকটিশিয়ান। বাছাইপর্বে ইরান ১৬টি এএফসি ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের চেয়ে আট পয়েন্ট এগিয়ে গ্রুপ শেষ করেছে। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে তারা শীর্ষ ২৫-এ আছে। তবে দলকে ঘিরে বিতর্ক ও রাজনৈতিক জটিলতা আছে। সার্দার আজমুন প্রাথমিক ৩০ জনের দলে না থাকায় আলোচনা হয়েছে— রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বলছে ইনজুরি, কিন্তু রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষাপটে তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

আক্রমণ

আজমুনের অনুপস্থিতিতে ইরানের আক্রমণ সংকুচিত। মেহদি তারেমি এখন একমাত্র নির্ভরযোগ্য অ্যাটাকার। তার ৫৬টি আন্তর্জাতিক গোল আছে এবং বাছাইপর্বে ১৫ ম্যাচে ১০টি গোল করেছেন। সামান ঘোদ্দোস মধ্যমাঠ থেকে আক্রমণে সংযোগ তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন। মেহদি ঘায়েদি ও আমিরহোসেইন হোসেইনজাদে উইংয়ে খেলেন, তারেমির জন্য বক্সে জায়গা তৈরি করেন। ইরানের আক্রমণ দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে। আজমুন ছাড়া দ্বিতীয় গোলের হুমকি নেই বললেই চলে, তারেমির ওপর চাপ আগের চেয়ে বেশি।

মিডফিল্ড

সাইদ এজাতোলাহি মিডফিল্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে তার উপস্থিতি ব্যাকলাইনকে বাড়তি সুরক্ষা দেয়। ট্রানজিশনে ঘোদ্দোস ও মোহাম্মদ মোহেবি কার্যকর। কোচ ঘালেনোই ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ছকে খেলান, কিন্তু মূল মনোযোগ রক্ষণে। ঘোদ্দোস এখন ক্রিয়েটিভ ভার বহন করছেন, যা তার জন্য বড় পরীক্ষা।

রক্ষণ

ইরানের রক্ষণ অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। বাছাইপর্বের দলের গড় বয়স ৩০ বছরের বেশি। শোজা খালিলজাদে ও আলি নেমাতি কেন্দ্রে খেলেন। আরিয়া ইউসুফি ও মিলাদ মোহাম্মাদি ফুলব্যাক। আলিরেজা বেইরানভান্দ গোলে ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ২টি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। দল রক্ষণাত্মক কৌশলে শক্তিশালী, কিন্তু প্রথমে গোল খেলে পুরো কৌশল উলটে যায়।

সম্ভাব্য একাদশ

বেইরানভান্দ; ইউসুফি, নেমাতি, খালিলজাদে ও মোহাম্মাদি; এজাতোলাহি, ঘোদ্দোস ও মোহেবি; ঘায়েদি, তারেমি ও হোসেইনজাদে।

সেট পিস

কর্নার: ঘোদ্দোস, হোসেইনজাদে, ওমিদ নুরাফকান ও ঘায়েদি। ফ্রি কিক: তারেমি ও ঘোদ্দোস। পেনাল্টি: তারেমি ও হোসেইনজাদে।

চ্যালেঞ্জ

আজমুনের অনুপস্থিতি ঢাকতে ঘোদ্দোসকে নতুন ভূমিকায় ভালো করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া জরুরি। ইরান তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও নকআউটে যায়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক জটিলতা মাঠের বাইরে মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। মার্চের প্রীতি ম্যাচে আক্রমণের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেলজিয়াম বা মিশরের কাছে প্রথম গোল খেলে দল পুরোপুরি অন্য সিস্টেমে খেলতে বাধ্য হবে, যা তাদের জন্য স্বাভাবিক নয়।

দল প্রিভিউ– নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। ১৬ বছরের অনুপস্থিতির পর এই ফিরে আসা দেশজুড়ে উৎসবের কারণ। ওএফসি বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত— পাঁচ ম্যাচেই জিতেছে, মাত্র একটি গোল খেয়েছে। ফিজিকে ৭-০ ও নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। কোচ ড্যারেন বাজলি ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন এবং দলে স্থিতিশীলতা এনেছেন। ২০১০ সালের দলটি তিন ম্যাচেই ড্র করেছিল, এমনকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকেও রুখে দিয়েছিল। এবারের দলও সেই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবে। ক্রিস উডের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড যেকোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

আক্রমণ

ক্রিস উড আক্রমণের প্রধান মুখ। নটিংহাম ফরেস্টের হয়ে ২০২৪-২৫ প্রিমিয়ার লিগে ২০ গোল করেছেন। ইলাইজা হেনরি জাস্ট দলে প্রাণশক্তি ও গোলের সুযোগ নিয়ে আসেন। মার্চে চিলির বিরুদ্ধে ৪-১ জয়ে তার গোল গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মার্কো স্তামেনিচ, সারপ্রিত সিং ও মিডফিল্ড ইউনিট সেকেন্ড বল দখলের লড়াইয়ে ভালো করে এবং দ্রুত উডকে সার্ভিস দেয়। বেঞ্জামিন ওল্ড বাম পাশ থেকে আক্রমণে বিস্তৃতি আনেন। নিউজিল্যান্ডের আক্রমণ সহজ কিন্তু কার্যকর— বল পেলেই তা উডের দিকে যাবে। তবে মার্চে উড ছাড়াই চিলিকে ৪-১ গোলে হারানো দেখিয়েছে দলে আক্রমণের গভীরতা আছে।

মিডফিল্ড

স্তামেনিচ ও বেল কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডে বাজির ঘোড়া। তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং বল জেতার লড়াইয়ে দারুণ। নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ড প্রথমে বল জেতে, তারপর দ্রুত অ্যাটাকারদের কাছে পাঠায়। সারপ্রিত সিং মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া আনেন। তিনি ম্যাথিউ গারবেটের সঙ্গে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে আছেন।

রক্ষণ

টাইলার বিন্ডন শেফিল্ড ইউনাইটেডে লোনে খেলছেন নটিংহাম ফরেস্ট থেকে। তিনি দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান ডিফেন্ডার। বেঞ্জামিন ওল্ড বা বিল টুইলোমা লেফট ফুলব্যাক হিসেবে খেলেন, আক্রমণে বাড়তি সুযোগ তৈরি করেন ও রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। ম্যাক্সিম টেরেমোয়ানা ক্রোকম্বে গোলে মিলওয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়মিত খেলছেন। মার্চে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেট পিসে গোল হজম করা বড় দুর্বলতা উন্মোচন করেছে।

সম্ভাব্য একাদশ

ক্রোকম্বে; কাকাচে, বক্সল, বিন্ডন ও ওল্ড; স্তামেনিচ ও বেল; জাস্ট, গারবেট ও সিং; সামনে উড।

চ্যালেঞ্জ

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বেলজিয়াম ও মিশরের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট কাঠামো ধরে রাখা। সেট পিসে দুর্বলতা সারাতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাখির চোখ করতে হবে— সেখানে হারলে নকআউটের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। উড ছাড়া দল ছন্দে আসে না, তার ফিটনেস নিশ্চিত রাখা বাজলির সবচেয়ে বড় কাজ। ক্রোকম্বে ভালো ফর্মে থাকলেও বেলজিয়ামের আক্রমণের চাপ সামলানো তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে।

প্রেডিকশন

বেলজিয়াম গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রবল দাবিদার। দ্বিতীয় স্থানের লড়াই মিশর ও ইরানের মধ্যে। মিশর সালাহ-মারমুশ জুটির কারণে ফেভারিট, কিন্তু ইরানের রক্ষণের দৃঢ়তা ও তারেমির গোলের ক্ষুধা দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তোলে। ২৬ জুনের মিশর-ইরান ম্যাচ গ্রুপের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। নিউজিল্যান্ডের সুযোগ কম, কিন্তু অসম্ভব নয়— ইরানের বিরুদ্ধে ড্র বা জয় পেলে এবং বেলজিয়াম ও মিশরের বিরুদ্ধে গোল ব্যবধান নিয়ন্ত্রণে রাখলে চমক হতে পারে।