২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ এইচ-এ একসঙ্গে জায়গা পেয়েছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুই বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, ২০২২ সালের অঘটনকারী সৌদি আরব এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে আসা কেপ ভার্দে। এই গ্রুপের প্রতিটি দলের শক্তিমত্তা, দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গ্রুপ এইচ-এর ফিক্সচার
- ১৫ জুন: সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে, মিয়ামি
- ১৫ জুন: স্পেন বনাম কেপ ভার্দে, আটলান্টা
- ২১ জুন: উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে, মিয়ামি
- ২১ জুন: স্পেন বনাম সৌদি আরব, আটলান্টা
- ২৬ জুন: কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব, হিউস্টন
- ২৬ জুন: উরুগুয়ে বনাম স্পেন, গুয়াদালাহারা
দল প্রিভিউ— স্পেন
স্পেন এই বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল। ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি পুরনো তিকি-তাকা কৌশল ছেড়ে এখন আরও গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। রদ্রি দলে ফিরে এসেছেন, যা স্পেনের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর। এই দলে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দাবিদার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন।
আক্রমণ
স্পেনের আক্রমণের মূল শক্তি তাদের ওয়াইড এলাকায় খেলার সক্ষমতা। ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ডান দিক থেকে খেলেন এবং ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত। তিনিই দলের প্রাণভোমরা। মিকেল ওইয়েরজাবাল স্ট্রাইকার হিসেবে অসাধারণ ফর্মে আছেন— শেষ ১০ ম্যাচে তার ১১টি গোল। নিকো উইলিয়ামস বাম দিক থেকে গতি ও সরাসরি রান নিয়ে আক্রমণে সহায়তা করেন, তবে তার পুবালজিয়ার সমস্যা রয়েছে। দানি অলমো অভিজ্ঞতার কারণে তৃতীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে এগিয়ে আছেন।
মিডফিল্ড
স্পেনের মিডফিল্ড বিশ্বের সেরাদের একটি। ২০২৪ ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন, বল বিতরণ ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার কাজ করেন। পেদ্রি মিডফিল্ডের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রেস প্রতিরোধে তার দক্ষতা অসাধারণ। ফাবিয়ান রুইজ হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফিরেছেন, যা দলের জন্য স্বস্তি।
রক্ষণ
স্পেন হাই ডিফেন্সিভ লাইন ধরে খেলে এবং হাইপ্রেসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে। রদ্রি রক্ষণের সামনে স্পেস কভার করেন। পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তে সেন্টার-ব্যাক জুটি হিসেবে এগিয়ে আছেন। ফুল-ব্যাকরা আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গোলরক্ষক হিসেবে উনাই সিমোন প্রথম পছন্দ, যদিও জোয়ান গার্সিয়া ও ডেভিড রায়াও রয়েছেন।
সম্ভাব্য একাদশ
উনাই সিমোন; পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া; রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ; লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়েরজাবাল, দানি অলমো।
সেটপিস
- কর্নার: পেদ্রি, আলেক্স বায়েনা ও লামিন ইয়ামাল
- ডিরেক্ট ফ্রিকিক: মিকেল ওইয়েরজাবাল ও পেদ্রি
- পেনাল্টি: মিকেল ওইয়েরজাবাল ও লামিন ইয়ামাল
চ্যালেঞ্জ
ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট দলটির সবচেয়ে বড় সমস্যা, কারণ উইলিয়ামস, রুইজ, মেরিনো ও ইয়ামালের চোটের ইতিহাস আছে। রদ্রিকে গ্রুপ ম্যাচে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। ইয়ামাল ও উইলিয়ামস ওপরে থাকলে পেছনে ট্রানজিশনে বিপদ আসতে পারে, যা উরুগুয়ে ও সৌদি আরব কাজে লাগাতে পারে। মিডফিল্ডের গভীরতা কম, তাই নতুন চোট বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিবর্তন আনতে হবে যাতে দীর্ঘ যাত্রায় সবাই ফিট থাকে।
দল প্রিভিউ— উরুগুয়ে
উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে বিশ্বকাপে এসেছে। বাছাইপর্বে তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। তবে বিয়েলসার কৌশল নিয়ে দেশে কিছু অসন্তোষ আছে; লুইস সুয়ারেজ প্রকাশ্যে বলেছেন, কোচের কৌশলে খেলোয়াড়রা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। উরুগুয়ে হাইপ্রেস করে খেলতে ভালোবাসে এবং আর্জেন্টিনাকে এই কৌশলেই হারিয়েছে। তবে দলটি বেশ অনিশ্চিত— ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে হারানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের নজিরও আছে।
আক্রমণ
উরুগুয়ের আক্রমণের মূল শক্তি সরাসরি খেলা, তীব্র শারীরিকতা ও মিডফিল্ডের শক্তি। ফেদেরিকো ভালভার্দে সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন; তিনি মাঠজুড়ে দৌড়ান, ডুয়েল জেতেন এবং গোল করেন। ডারউইন নুনিয়েজ গতি ও শারীরিক শক্তি দিয়ে ডিফেন্ডারদের চাপে রাখেন এবং স্পেস তৈরি করেন। জর্জিয়ান দে আরাস্কায়েতা অ্যাটাকিং মিডফিল্ড থেকে সৃজনশীলতা যোগ করেন। রদ্রিগো আগুয়েরে ও মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গতি ও সরাসরি রান দিয়ে হুমকি সৃষ্টি করেন। উরুগুয়ে ট্রানজিশন ও সেট পিসে বিপজ্জনক।
মিডফিল্ড
ভালভার্দে দলের প্রাণ। রদ্রিগো বেন্তানকুর তাকে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন। মানুয়েল উগার্তে রক্ষণের সামনে স্ক্রিনার হিসেবে কাজ করেন এবং শক্তি যোগান। দে আরাস্কায়েতা আক্রমণের সঙ্গে মিডফিল্ডের যোগসূত্র তৈরি করেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালভার্দের পেনাল্টি প্রমাণ করেছে কঠিন মুহূর্তে দল ফল বের করতে পারে।
রক্ষণ
রোনাল্ড আরাউহো ও হোসে মারিয়া হিমেনেজ সেন্টার-ব্যাক জুটি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ জুটি। উগার্তের উপস্থিতি তাদের সামনে থেকে সুরক্ষা দেয়। ফার্নান্দো মুসলেরা অভিজ্ঞ প্রথম পছন্দের গোলকিপার, তবে তার বয়স ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
সম্ভাব্য একাদশ
মুসলেরা; ভালেরা, আর. আরাউহো, হিমেনেজ, অলিভেরা; ভালভার্দে, বেন্তানকুর, উগার্তে, এম. আরাউহো; দে আরাস্কায়েতা, নুনিয়েজ।
সেটপিস
- কর্নার: দে আরাস্কায়েতা ও ভালভার্দে
- ডিরেক্ট ফ্রিকিক: দে আরাস্কায়েতা ও ভালভার্দে
- পেনাল্টি: ভালভার্দে
চ্যালেঞ্জ
পিকেরেজের চোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি না থাকলে রক্ষণে বড় পরিবর্তন আসবে। প্রতি আক্রমণ নির্ভর হওয়ার ফলে উরুগুয়ে আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষের সামনে ভালো খেলে, কিন্তু লো ব্লকে আক্রমণ থমকে যায়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভালো ফল পেলে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানের লড়াই সহজ হবে। ২৬ জুন স্পেনের ম্যাচটি সত্যিকারের পরীক্ষা। মুসলেরার বয়স ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
দল প্রিভিউ— সৌদি আরব
সৌদি আরবের গল্প নতুন করে শুরু হয়েছে হার্ভে রেনার্ডের ফেরার মাধ্যমে। এই ফরাসি কোচের অধীনেই ২০২২ বিশ্বকাপে তারা আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফিরে এসেছেন এবং তার সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও ফিরেছে। বাছাইপর্বে তারা জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পেছনে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ করে প্লেঅফ খেলে বিশ্বকাপে উঠেছে। মার্চে রেনার্ড দোহায় ৫০ জনের ক্যাম্প করেছেন, কিন্তু মিশরের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রেনার্ডের অধীনে দলটি চমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আক্রমণ
সৌদি আরবের আক্রমণ দ্রুত ট্রানজিশন নির্ভর। সালেম আল-দাওসারি অধিনায়ক ও আক্রমণের নেতা। ২০২২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তার জয়সূচক গোলটি স্মরণীয়। ৩৪ বছর বয়সী আল-দাওসারির এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ফিরাস আল-বুরাইকান প্রধান স্ট্রাইকার এবং আব্দুল্লাহ আল-হামদান তাকে সহায়তা করেন। সাউদ আবদুলহামিদ রাইট-ব্যাক থেকে ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠে আসেন।
মিডফিল্ড
রেনার্ডের সিস্টেমে মিডফিল্ডারদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কানো, আল-খাইবারি ও আল-জুওয়াইর মিডফিল্ড ত্রয়ী তৈরি করেন, যারা প্রেস করার কাজে সবচেয়ে সক্রিয়। আল-জুওয়াইর মিডফিল্ড থেকে সামনে এগিয়ে আক্রমণে সহায়তা করেন এবং কোচের সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ফুল-ব্যাকরা ওপরে উঠে মাঠের দুই পাশে ওভারলোড তৈরি করেন।
রক্ষণ
সৌদি আরব হাই প্রেস ও জোনাল ডিফেন্ডিংয়ের ওপর নির্ভর করে, লো ব্লকে খেলতে পছন্দ করে না। হাসান তামবাকতি ও আলি লাজামির সেন্টার-ব্যাক জুটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং এরিয়াল বলেও পটু। তবে মার্চে মিশরের কাছে ৪-০ গোলের হার দেখিয়েছে তাদের হাইলাইন দ্রুত আক্রমণের সামনে দুর্বল। নাওয়াফ আল-আকিদি প্রথম পছন্দের গোলকিপার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কোচ রেনার্ড মোহাম্মদ আল-ওয়াইসকেও স্কোয়াডে ফিরিয়েছেন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে।
সম্ভাব্য একাদশ
আল-আকিদি; আবদুলহামিদ, তামবাকতি, আলি লাজামি, বুশাল; কানো, আল-খাইবারি, আল-জুওয়াইর; এন. আল-দাওসারি, আল-বুরাইকান, এস. আল-দাওসারি।
সেটপিস
- কর্নার: সালেম আল-দাওসারি ও আল-জুওয়াইর
- ডিরেক্ট ফ্রিকিক ও পেনাল্টি: সালেম আল-দাওসারি
চ্যালেঞ্জ
মিশরের কাছে ৪-০ হারের পর রক্ষণের দুর্বলতা বড় প্রশ্ন। উত্তর আমেরিকার গরমে আল-দাওসারির বয়স ও শারীরিক লোড সামলানো চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জয় প্রয়োজন। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে প্রেস কাজ না করলে পেছনে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে।
দল প্রিভিউ— কেপ ভার্দে
মাত্র ৫ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে এসেছে। তারা ক্যাফ গ্রুপ ডি-তে শীর্ষ থেকে বিশ্বকাপে এসেছে, পথে ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলেছে। ১০ ম্যাচে সাতটি জিতে মাত্র কয়েকটি গোল খেয়েছে। কোচ পেদ্রো বুবিস্তা ব্রিটো নিজেও দলের সাবেক খেলোয়াড়, ২০২০ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটিকে পরিবর্তন করেছেন। তার অধীনে ২০২৩ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা আরেকটি সাফল্য।
আক্রমণ
কেপ ভার্দের আক্রমণ সরাসরি কাউন্টার, উইংয়ের গতি ও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গড়ে ওঠে। রায়ান মেন্দেস অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা, ৩৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন। জোভানে কাব্রাল বা উইলি সেমেদো গতি দিয়ে কম্প্যাক্ট রক্ষণ ভেঙে দিতে পারেন। লোগান কোস্তা সেন্টার-ব্যাক হলেও গভীর থেকে আক্রমণ শুরু করতে পারেন, তবে হাঁটুর চোট থেকে ফিরছেন। প্রতিপক্ষ সামনে এলে উইঙ্গারদের গতি কাজে লাগিয়ে কাউন্টার করাই পরিকল্পনা।
মিডফিল্ড
কেপ ভার্দের মিডফিল্ডে পিনা ও ইয়ানিক সেমেদো দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। জামিরো মন্তেরো মিডফিল্ড থেকে আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। মেন্দেস ও উইলি সেমেদো ওপরের দিকে থেকে আক্রমণ তৈরি করেন।
রক্ষণ
কোচ বুবিস্তা সেন্ট্রাল অঞ্চল রক্ষা করে প্রতিপক্ষকে প্রশস্ত জায়গায় ঠেলে দেওয়ার একটি আঁটসাঁট ও কম্প্যাক্ট কাঠামো তৈরি করেছেন। চার জনের ব্যাকলাইন অভিজ্ঞ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। রবার্তো লোপেস আইরিশ বংশোদ্ভূত শামরক রোভার্সের ডিফেন্ডার, যাকে ফেডারেশন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দলে টেনেছিল। তিনি ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত খেলছেন। গোলকিপার ভোজিনিয়া বাছাইপর্বে স্থিতিশীল ছিলেন।
সম্ভাব্য একাদশ
ভোজিনিয়া; মোরেইরা, কোস্তা, পিকো, পাউলো; পিনা, ইয়ানিক সেমেদো, মেন্দেস, মন্তেরো, উইলি সেমেদো; লিভরামেন্তো।
সেটপিস
- কর্নার: রায়ান মেন্দেস ও জামিরো মন্তেরো
- ডিরেক্ট ফ্রিকিক: রায়ান মেন্দেস
- পেনাল্টি: মেন্দেস ও জামিরো মন্তেরো
চ্যালেঞ্জ
স্পেন ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। কম্প্যাক্ট কাঠামো হলেও এই দুই দলের বিপক্ষে ফাঁকফোঁকড় দেখা দিলেই শাস্তি পেতে হবে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জয় বা ড্র পেলে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে থাকা সম্ভব। ঠাসা সূচিতে মূল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন হবে। প্রেসিং গেম ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল। লোগান কোস্তার চোট পুরোপুরি না সারলে রক্ষণে দুশ্চিন্তা হতে পারে। এই গ্রুপে অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা তাদের আছে।
প্রেডিকশন
স্পেনের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানও অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে, সেটা হতে পারে উরুগুয়ের। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভালো ফল পেলে দ্বিতীয় স্থান অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। সৌদি আরব তৃতীয় স্থানের সত্যিকারের দাবিদার। কেপ ভার্দের জন্য নকআউট পর্বে যেতে সত্যিকারের একটি অঘটন দরকার, সেটা আসতে পারে সৌদির বিপক্ষেই।



