চীনের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি ভেষজ উদ্ভিদের শিকড় টাকের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা।
পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরাম: চুল গজানোর সম্ভাবনা
গবেষকদের মতে, পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরাম নামের এই উদ্ভিদটি অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বা প্যাটার্ন টাকের পেছনে থাকা বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে চুল পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া কী?
অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া, যা সাধারণভাবে প্যাটার্ন টাক নামে পরিচিত, ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। এ অবস্থায় চুলের ফলিকল বা গোড়া সময়ের সঙ্গে ছোট হতে থাকে, ফলে নতুন গজানো চুল ক্রমশ পাতলা, দুর্বল ও ছোট হয়ে যায়। ফলিকল আরও সংকুচিত হলে চুলের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বা একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে মাথায় দৃশ্যমান টাকের সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে এ ধরনের চুল পড়া রোধে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধ হলো ফিনাস্টেরাইড ও মিনোক্সিডিল। ফিনাস্টেরাইড চুলের ফলিকল সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, আর মিনোক্সিডিল মাথার ত্বকে প্রয়োগ করে চুলের বৃদ্ধি উদ্দীপিত করা হয়। তবে এসব চিকিৎসা সবার জন্য উপযোগী নয়। অনেকেই ফিনাস্টেরাইডের সম্ভাব্য যৌনস্বাস্থ্যজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা মিনোক্সিডিল ব্যবহারে মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। ফলে বিকল্প ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
প্রাচীন ভেষজে নতুন আশার আলো
গবেষণা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরাম ব্যবহার হয়ে আসছে। সাধারণত এটি চুল কালো রাখা এবং শরীরের প্রাণশক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়। গবেষকদের ধারণা, চুলের বৃদ্ধি ও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার সক্ষমতা থাকায় উদ্ভিদটি আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখে।
অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) নামের একটি হরমোন। এই হরমোন ধীরে ধীরে চুলের ফলিকল সংকুচিত করে, ফলে স্বাস্থ্যকর ও শক্তিশালী চুল উৎপাদন ব্যাহত হয়। গবেষণা পর্যালোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরাম ডিএইচটির ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুলের ফলিকল সুরক্ষিত থাকতে পারে এবং প্যাটার্ন টাকের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে।
গবেষকরা আরও জানান, প্রচলিত অনেক চিকিৎসা যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করে, সেখানে এই ভেষজটি একসঙ্গে চুল পড়া ও পুনরায় গজানোর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক জৈবিক পথকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
পর্যালোচনাটিতে পলিগোনাম মাল্টিফ্লোরামকে চুল পড়ার বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করা হলেও গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসায় ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও বিষয়টি নিয়ে আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি।
সূত্র: সামা



