টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়া প্রেমের সময় এক বিএনপি নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে উভয়ের সম্মতিতে পাঁচ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের মাধ্যমে এ ঘটনার মীমাংসা হয়।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তি হলেন সফিক সিকদার, তিনি একই ওয়ার্ডের কটামারা গ্রামের রহমান সিকদারের ছেলে এবং বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনালিয়া গ্রামের সামান মিয়ার মেয়ে সাবিনা আক্তারের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তিনি তিন বছর আগে সৌদি আরব চলে যান। কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে এসে কটামারা গ্রামের দুই সন্তানের জনক সফিক সিকদারের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সফিক নিয়মিত রাতে সাবিনার বাড়িতে আসতেন।
জনতার হাতে আটক
বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে এলে তারা সোমবার রাতে গোপনে পাহারা দেন। রাত ১১টার দিকে সফিক ওই নারীর ঘরে ঢুকলে স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ঘেরাও করে দুজনকে আটক করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন।
পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি
খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাঁশতৈল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আক্কাছ, ৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিয়াম উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন।
বিয়ের সিদ্ধান্ত
পরে সফিক ও সাবিনার সম্মতিতে পাঁচ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ২টার দিকে আলাউদ্দিন আল আজাদসহ নেতৃবৃন্দ দুজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
উপপরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে নারী-পুরুষ আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে মীমাংসার প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা চলে আসেন। ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



