জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বর্তমানে 'এটা আমাদেরই গল্প' নাটকের কল্যাণে 'জাতীয় ফুফু' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ফুফু-জীবন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
জাতীয় ফুফুর ফুফা কে?
প্রশ্ন করা হয়েছিল, 'এটা আমাদেরই গল্প' নাটকের কল্যাণে তিনি এখন 'জাতীয় ফুফু' হিসেবে পরিচিত। তার এই ফুফু-জীবনের 'ফুফা' আসলে কে? জবাবে দীপা খন্দকার বলেন, 'এটা আমাদেরই গল্প'র ফুফা হচ্ছেন ইন্তেখাব দিনার ভাই আর বাস্তব জীবনের ফুফা তো অবশ্যই শাহেদ আলী!
ভক্তরা যখন তাকে দেখে সেলফি তুলতে ছুটে আসে, তখন শাহেদ আলীর প্রতিক্রিয়া কী হয়? দীপা খন্দকার জানান, 'আরে, সে তো এই অবস্থা দেখলেই তাড়াতাড়ি সরে যায়। ছবি তুলবে না, একদম দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। সবাই চলে গেলে তারপর আসবে। একটু লাজুক আছে (হাসি)!'
ভাইপো-ভাগনেদের প্রতিক্রিয়া
এই 'জাতীয় ফুফু' হওয়ার পর তার আসল জীবনের ভাইপো-ভাগনেদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা কি ইনসিকিউরড ফিল করছে? দীপা খন্দকার জানান, 'না না, তারা তো ভীষণ খুশি! বরং আমার ননদ মনে করে, নাটকের এই ফুফু চরিত্রটা আসলে আমি তাকে দেখেই করছি। এটা ভেবেই সে খুব আনন্দ পায়।'
মুড়ি-জিলাপি বিতর্ক
শোনা যায়, তার মুড়িতে জিলাপি নাকি মাস্ট? দীপা খন্দকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, 'একদম না! অবশ্যই জিলাপি ছাড়া মুড়ি। মুড়িতে সব সময় ঝাল পছন্দ করি। ঝাল খাবারের সঙ্গে মিষ্টি মেশাব কোন দুঃখে? এরা কারা, যারা মুড়িতে জিলাপি মেশায়!'
এক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলে কী করতেন?
কল্পনায় যদি তাকে এক দিনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয়, তবে তিনি প্রথম কোন পরিবর্তন আনবেন? দীপা খন্দকার বলেন, 'দেখুন, সবাই তো এক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের কথা চিন্তা করে। এত পরিবর্তন, এই করবে, সেই করবে। কিন্তু এক দিনে আসলে দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। তাই আমি নিজের উন্নতি করতাম। সোজা গিয়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা টাকায় ভরে ফেলতাম! এরপর সুখের লাইফ—টাকা আর টাকা।'
ঢাকার জ্যাম ও খাবারের প্রতি ভালোবাসা
দেশের বাইরে গেলে ঢাকার জ্যামের কথা মনে হলে আর ফিরতে চান না? দীপা খন্দকার বলেন, 'প্রশ্নই ওঠে না। অবিশ্বাস্য মনে হলেও দেশের বাইরে গেলে ঢাকার যানজট মিস করি! আর অবশ্যই ঢাকার খাবার।'
কাচ্চি না তেহারি? তিনি জানান, 'শর্ষের তেলে তেহারি—এটা অলটাইম পছন্দ, আহা! ঘ্রাণ। তবে শীতের দিনে কাচ্চিটাও ভালো লাগে। আমি ফুড লাভার। সবই প্রিয়।'
অভিনয় ছেড়ে অন্য পেশা?
অভিনয় তো অনেক হলো। সুযোগ থাকলে চোখ বন্ধ করে অন্য কোন পেশায় সুইচ করতেন? দীপা খন্দকার বলেন, 'এমন কোনো পেশা যদি থাকত, যেখানে শুধু বাসায় শুয়ে-বসে থাকব আর ঘুমাব, কিন্তু মাস শেষে বেতনটা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে, তাহলে আমি সেই পেশাতেই সুইচ করতাম! শুধু খাওয়া আর ঘুম।'
ঘুমের প্রতি ভালোবাসা
তার মানে ঘুম তার বেশ প্রিয়? এক লাইনে ঘুমকে কীভাবে বর্ণনা করবেন? তিনি বলেন, 'ঘুম হচ্ছে আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু, একে ছাড়া চলা আমার পক্ষে একদম অসম্ভব।'
শাহেদ আলীর প্রশংসা ও সমালোচনা
পারিবারিক হাঁড়ির খবর নিতে গিয়ে জানা যায়, তিনি নাকি বেশ কৃপণ—এমনটাই বলেছেন শাহেদ আলী। দীপা খন্দকার বলেন, 'আমি আসলে হিসাবি। কিন্তু শাহেদ আলীর মধ্যে হিসাব-নিকাশ বা জমানোর কোনো বালাই নেই। সে যেন এই দুনিয়ার বাস্তবতাতেই নেই!'
শাহেদ আলী ভাইয়ের শুধু দোষই বলছেন, গুণ কি নেই? তিনি বলেন, 'তার গুণ একটাই—সে ভালো মানুষ। কিন্তু দোষ ১০০০টা!'
চা না কফি?
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি জানান, 'একদম চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি আমার প্রিয়। এটা ছাড়া চলেই না। চা খুব একটা টানে না।'



